শাফিউল কায়েস


বৃদ্ধাশ্রম আর ভালোবাসা শব্দ দুটি যেন একে অপররে বিপরীতে কথা বলে। ভালোবাসা কি? এর উত্তর দেওয়া খুব কঠিন, ভালো লাগার সংজ্ঞা দেওয়ার মতো।

পৃথিবীর বুকে এমন দুইজন ব্যক্তি আছেন যারা সব সময়, সব পরিস্থিতিতে ভালোবাসার প্রাপ্য।আমাদের মনে প্রতিচ্ছবি হবে তারা, আর মন থেকে ভালোবাসার একমাত্র মূল্যবান চাবিকাঠি। তারা হলেন আমাদের কলিজার টুকরা, মা-বাবা।

একবার চিন্তা কর দেখ তুমি তারা না হলে হইতো তুমি সুন্দর এই পৃথিবী দেখতে পেতে না। পৃথিবী নামক একটি গ্রহের নাম ও তুমি জানতে পারতে না।

আজ তুমি অনেক বড় অফিসার, তাদের দিকে নজর দেওয়ার মতো সময় নাই তোমার। কিন্তু তাদের সারাটা জীবন অতিবাহিত করেছে তোমার সুখের জন্যে। তাদের ভালোবাসার জন্য আমরা বেঁচে আছি।

ভালোবাসা না থাকলে কেউ বাঁচতে পারে না। ভালোবাসা হচ্ছে মনকে জাগ্রত করার একটা ওষুধ।আর মন ভালো না থাকলে কখনো দেহ ভালো থাকতে পারে  না।

ভালোবাসা না থাকলে যে কেউ খারাপ পন্থা অনুসরণ করে। ভালোবাসা না থাকলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভালোবাসা না থাকলে দেহের মৃত্যু হয়। ভালোবাসার বিপরীত শব্দ কী হতে পারে? আমরা তা সকলে জানি, ঘৃণা, বিদ্বেষ, হিংসা এ রকমভাবে অনেক বিপরীত শব্দ পাওয়া যাবে।

আমারা ভালোবাসা শব্দটির বিপরীতে আরও একটি নতুন শব্দ তৈরি করে ফেলেছি, তা হয়তো সকলের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গেছে।
সেই শব্দটি হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রম।

আমাদের এত ভালোবাসা তাহলে, আমাদের কলিজার টুকরাদের বৃদ্ধাশ্রমে রাখেন। আপনাদের বুকের ভেতরে এত সাহস কোথা থেকে আসে। মাত্র কয়েক দিনের নতুন সঙ্গীর ভালোবাসা পেয়ে মা-বাবার ভালোবাসার কথা ভুলে যাও।

কত কষ্ট, কত রক্তক্ষরণ, কত যন্ত্রণা, কত বঞ্চনা, কত আহাজারি সয়ে নিয়ে তোমাকে লালন-পালন করেছে যে পিতা-মাতা
আজ তুমি কিসের অহংকারে পড়ে এই সোনার মতো দুটি মানুষকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাও?

একা থাকার কষ্ট যে কি, কয়েকটা বছর ধৈর্য ধারণ করো। তোমার সন্তান তোমার সাথে যখন এমন আচারণ করবে তখন বুঝবে। আসলে কাঁটা ঘায়ে নুন ছিটা না দিলে বুঝতে পারা যায় না ঘায়ের যন্ত্রণা কতটা প্রখর।

ভালোবাসা শব্দ পৃথিবীতে যতদিন থাকবে ততদিন বৃদ্ধাশ্রম শব্দ থাকবে না। আর যদি বৃদ্ধাশ্রম শব্দটি থেকে থাকে বুঝে নিন পৃথিবীতে মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা একেবারে নাই।

‘আমি চাই না সেই দেশ, যে দেশে একটি হলেও বৃদ্ধাশ্রম। চাই না সেই দেশ, যে দেশের সন্তানেরা বাবা-মাকে পাঠায় বৃদ্ধাশ্রম।

আমি চাই না সেই দেশ, যে দেশে নিত্যনতুন তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের বড় বড় দালান, আর সেখানে রাখা হবে মাতা-পিতাকে।

আমি চাই না সেই দেশ, কংক্রিটের দেয়ালে লেখা থাকে বৃদ্ধাশ্রম। যদি সে দেশে বৃদ্ধাশ্রম থেকে থাকে, তাহলে আমি সে দেশের নাগরিক বা সেই দেশের কেউ না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares